Wednesday , October 23 2019

শরীরের যে সমস্যা থাকলে রসুন খাবেন না

শরীরের যে সমস্যা থাকলে- আমাদের শরীরের অনেক সমস্যার জন্যই রসুন খুব উপকারি। তবে সবার শরীরের জন্যই যে এই খাবারটি ভাল ফল নিয়ে আসবে তা কিন্তু নয়। রসুনের কিছু কিছু গুণের জন্য আপনার শারীরিক সমস্যা বেড়েও যেতে পারে। আপনার যে সমস্যাগুলো থাকলে রসুন খাওয়া ঠিক নয়, এমন কিছু কারণ জেনে নিন।

লিভারের সমস্যা : লিভারের সমস্যা থাকলে রসুন না খাওয়াই ভাল। কারণ রসুন আপনার লিভারের সমস্যা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

হোমিওপ্যাথি ওষুধ : পেঁয়াজ, রসুন হোমিওপ্যাথি ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে। তাই হোমিওপ্যাথি ওষুধের কোর্স খেলে সেই সময় রসুন এড়িয়ে চলুন।

নিম্ন রক্তচাপ : কারো যদি নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে রসুন কম খাওয়াই ভাল। রসুন রক্তচাপ আরো কমিয়ে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

রক্তাল্পতা : রসুন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাই রক্তাল্পতার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে রসুন খাওয়া বাদ দিতে পারেন।

বদহজম : হজমের সমস্যায় ভুগলে রসুন ও তেল মসলাযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকুন।

গর্ভ নিরোধক পিল : যদি আপনি নিয়মিত গর্ভ নিরোধক পিল খান তাহলে অতিরিক্ত রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। রসুন গর্ভ নিরোধক পিলের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

গর্ভকালীন সময়: রসুন শরীর গরম করে। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রসুন খেলে তা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িযে দেয়। যার ফলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে। যাদের রসুনে অ্যালার্জি আছে তারা এড়িয়ে চলুন।

তবে সমস্যা না থাকলে খালি পেটে রসুন খাওয়ার অনেক উপকারিতা আছে জেনে নিন সে গুলো:

খালি পেটে রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যকর একটি ব্যাপার। খালি পেটে রসুন খেলে এমন কিছু উপকার হয়, যেটা অন্য খাবারের সাথে রান্না করা অবস্থায় খেলে হয় না। রসুন অবশ্যই খেতে হবে সকালে, নাস্তা করার আগে। চিবিয়ে খেতে না চাইলে পানি দিয়ে গিলে ফেলুন টুকরো করা দুই কোয়া রসুন।

এটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। গবেষকদের মতে খালি পেটে রসুন খেলে তা হাইপারটেনশন ও স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে হজমের সমস্যাও রোধ করে। স্ট্রেস থেকে পেটে গ্যাসের সমস্যা হলে সেটাও প্রতিরোধ করে খালি পেটে রসুন। অন্যদিকে ডায়রিয়া হলে দ্রুত তা সারিয়ে দেয়। সকালে খালি পেটে রসুন রক্ত পরিস্কার করে।

মুখের ব্যাকটেরিয়া এবং দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি উপায়

১৯৯৮ সালের অস্কার বিজয়ী বিশ্ব বিখ্যাত চলচ্চিত্র টাইটানিকে নায়ক জ্যাক আর নায়িকা রোজের লিপ-লকিং চুমো খাওয়ার দৃশ্যের কথা মনে আছে? ভাবুন তো জ্যাকের মুখে দুর্গন্ধ! কি বিশ্রী একটা বিষয় দাঁড়াতো? আপনিও নিশ্চয়ই এমন কোনো বাজে পরিস্থিতিতে পড়ার কথা ভাবেন না।

কিন্তু গবেষণা বলছে পৃথিবীর ৩৫-৪৫% মানুষের মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসে। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই ১০ বিলিয়ন ডালারের ওরাল হাইজিন প্রোডাক্ট বিক্রি হয় প্রতিবছর।

আমরা আপনাদের মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ৭টি সহজ উপায় নিয়ে হাজির হয়েছি। এখানে এমন কিছু উপকরণ ব্যবহার হবে যা হয়তো ইতিমধ্যেই আপনার বাসায় আছে।

ওহ হ্যা, আপনি কি টাইটানিক মুভিতে নায়িকা রোজের পুরো নামটি জানেন? পড়তে থাকুন শেষ পর্যন্ত।
প্রাকৃতিক মাউথ ওয়াশ এবং ব্রেথ ফ্রেশনার ব্যবহার করুন

১. পুদিনা পাতা মুখের দুর্গন্ধের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং মুখের সতেজতা ফিরিয়ে আনে।

২. লবঙ্গ এবং এলাচের মত মশলা আমাদের মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

৩. বেকিং সোডা আরেকটি প্রাকৃতিক মাউথওয়াশ যা হাতের কাছেই পাওয়া যায়। এক কাপ পানিতে এক চা চামচ বেকিন সোডা মিশিয়ে কুলকুচি করুন। বিকল্প হিসাবে দাঁত ব্রাশ করার সময় পেস্ট সহ ব্রাশ এই পানিতে ভিজিয়ে নিতে পারেন।

৪. মেথির পাতা দিয়ে তৈরি চা চমৎকার একটি অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল মাউথওয়াশ। দিনের শুরুতে এই চা পান করুন।

প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার পানি পান করুন

পর্যাপ্ত পানি পান করে যেমন নিজেকে সতেজ রাখা যায় তেমনি মুখের দুর্গন্ধও দূর করা সম্ভব। মুখের লালা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন প্রতিহত করে আর লালা গ্রন্থিকে সক্রিয় রাখতে পানি প্রয়োজন। তাই মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিহত করতে হলে পানি পান করতে হবে।

কারণ এই ব্যাকটেরিয়াগুলো শুষ্ক মুখে দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর এজন্যই মিষ্টি পানীয় পান না করার জন্য দন্তরোগ চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কারণ চিনিযুক্ত পানীয় মুখের ভেতরটা ‍শুকিয়ে দেয় এবং মুখের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

আপনি কি খেতে পারবেন

মুখ সতেজ রাখতে মুখে দুর্গন্ধ তৈরির জন্য সুপরিচিত কিছু খাবার অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে। এক্ষেত্রে পেঁয়াজ এবং রসুন হলো দাগী আসামী। তবে এদের পুরোপুরি এড়িয়েও যাওয়া যাবে না।

কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়াঁজ দাঁতের ক্ষয় সৃষ্টিকারী ৪ রকম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। আগের মত অনেক পরিমাণে না খেলেও অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। অধিক মিষ্টি এবং অ্যাসিডযুক্ত খাবারও মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর জন্য দায়ী। তাই এগুলোও আপনাকে এড়িয়ে চলতে হবে।

যদি আপনি ক্ষুধার্থ হন, আপেল খাবেন। আপেলে হেটারোপলিস্যাকারাইড পেকটিন নামক একটি উপাদান রয়েছে যা লালা উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।

জিহ্ব পরিষ্কা করুন

জিহ্বা হচ্ছে এসব জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়ার আতুড়ঘর। তাই দাঁত ব্রাশ করার পর জিহ্বা পরিষ্কার করতেও ভুলবেন না। এতে আপনার জিহ্বায় আটকে থাকা খাদ্যকণার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াও দূর হবে।
দিনে দুই বার দাঁত ব্রাশ এবং এক বার ফ্লস করুন

রাতে খাওয়ার পর এবং সকালে নাস্তার পর দাঁত ব্রাশ করা নিয়ম হয়তো জানেন, কিন্তু দিনে একবার ফ্লস করার কথা নতুন লাগবে অনেকের কাছে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রায় ৫৫% এর বেশি নারী ফ্লস করলেও পুরুষের মধ্যে এই প্রবণতা অর্ধেকেরও নীচে। ব্রাশ করার পাশাপাশি ফ্লস করলে দাঁতের সাথে আটকে পড়া অতিক্ষুদ্র খাদ্যকণা এবং দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।

মাড়ি সুস্থ রাখুন

দাঁতের গোড়ায় মাড়ির গর্তেও জীবাণু ঢুকে মুখে গন্ধ সৃষ্টি করে থাকে। তাছাড়া মাড়ির রোগ মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। মাড়ি সুস্থ রাখার জন্য ফ্লুরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট বেছে নিন। আপনাকে ধূমপানও বন্ধ করতে হবে।

কারণ ধূমপানে মুখে যেমন গন্ধ সৃষ্টি হয় তেমনি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নষ্ট করতে থাকে। ফলে মুখে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর করা অসম্ভব হয়ে পড়ে এবং মাড়ির রোগ লেগেই থাকে। এছাড়া ধূমপান অসুস্থ মাড়িকে সেরে উঠতেও বাঁধা প্রদান করে।

ফলের খোসা চিবান

নিয়মিত লেবু অথবা কমলার মত ফলের খোসা চিবালে মুখ ভরে ওঠে সতেজতায়, নির্মল হয় মুখের বাতাস। সাথে লালা গ্রন্থিও সক্রিয় হয়ে লালা উৎপাদন বাড়য়ে দেয়। ফলে মুখের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয় এবং দূর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ হয়।

এখন আপনি জানলেন কিভাবে মুখের দুর্গন্ধ দূর করে নিশ্বাসে সতেজতা নিয়ে আসা যায়। এখন থেকে আর বন্ধুদের মধ্যে বা প্রেমিকার সামনে বিব্রত হতে হবে না।

ওহ হ্যা, টাইটানিক মুভিতে কেট উইন্সলেটের চরিত্র রোজের পুরো নাম ছিল ‘রোজ ডেভিট বুকারটার’। আপনি কি কেট উন্সলেটের পুরো নাম জানেন?

Check Also

খালি পেটে ডাবের জল খেলে হার্টের এই রোগ গুলো আর কখনো হবে না…

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে সারা বছর ধরে যদি নিয়ম করে ডাবের জল খাওয়া যায়, তাহলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *