Wednesday , October 23 2019

হঠাৎ গ্রেফতার হলে কী করবেন ? জেনে নিন কিছু আইনি পরামর্শ…

বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে, আপনার রাষ্ট্র সম্বন্ধে ধারণা অনেকখানি বদলেছে। সেই পুরাতন সময় বা অতীতের সময়ের রামরাজ্য আজ শুধু পাঠ্য বই বা গল্প বইয়ে সীমাবদ্ধ। আজ চারিদিকে ভূরি ভূরি উদাহরণ যেখানে রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকা নিয়েছে। যেখানে সমাজের প্রান্তিক শ্রেণী থেকে মধ্য, নিম্ন শ্রেণীর মানুষ রাষ্ট্র ব্যবস্থা দ্বারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে।

আজ বিনা কারণে আপনার রাজনৈতিক চিন্তাধারার মতাদর্শের পার্থক্যের জন্য আপনি যখন তখন বিনা কারণে পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে পারেন। তাই আজ আপনাকে জানতে হবে বিনা কারণে পুলিশি হেনস্থা বা সোজা কথায় পুলিস গ্রেফতার করলে আপনার কী কী করণীয়। আপনার অধিকার জানলে আপনি অনেক বেশি সচেতন হবেন। আর নিজে জানলে অপরকে জানতেও সচেষ্ট হবেন।

আমরা সাধারণ মানুষেরা সাধারণত আইনের নানা মারপ্যাচ বুঝি না বা বুঝতে চেষ্টা করি না। আমরা সাধারণত আইন বিরুদ্ধ কাজ করি না। কিন্তু তবুও নানান চক্রান্তে আপনি যদি পুলিশি হেনস্থার শিকার হয়ে যান তাহলে যা যা আপনার করণীয়। অর্থাৎ এই সম্বন্ধে আমাদের আইন কী কী অধিকার আপনার জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন তা জেনে নিন।

সাধারণত সিনেমায় আমরা দেখি পুলিস সন্দেহের বসে যেকোন মানুষকে গ্রেফতার করে থানার লকআপে রেখে দেন এবং তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। কিন্তু বাস্তবটা অন্যরকম। পুলিস আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে না 41CRPC নোটিশ না দিয়ে

আইন যা বলছে

বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার করা যেতে পারে। তবে, ওয়ারেন্ট বা বিনা ওয়ারেন্টে, কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে অভিযুক্তকে অবশ্যই অ্যারেস্ট মেমো দিতে হবে।
সেই অ্যারেস্ট মেমোতে দুই নিরপেক্ষ প্রাপ্ত বয়স্ক মানসিক ভারসাম্যযুক্ত নাগরিকের সই থাকতে হবে।

অভিযুক্তকে বা যাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তাকে যে অ্যারেস্ট মেমো দেওয়া হচ্ছে তাতে কী কারণের জন্য গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তার কারণ ও ভারতীয় আইনের ধারা বা সেকশন উল্লেখ অবশ্যই করতে হবে।

পুলিস সরকারি কাজের প্রয়োজনে বা কোন কিছু অনুসন্ধানে যে কোন ব্যক্তিকে থানায় ডেকে পাঠাতেই পারে। তবে ডেকে পাঠানোর ক্ষেত্রে যাকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে তাকে লিখিত কল মেমো দিতে হবে পুলিসকে, সেখানে ডেকে পাঠানোর কারণ লিখতে হবে বিশদ বিবরণ সহ।

কিন্তু হঠাৎ করে আপনার বাড়ি বা গুদাম বা দোকানঘর বা অফিস বা কোন প্রেমিসেস তল্লাশি বা সার্চ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে সার্চ ওয়ারেন্ট দেখাতে হবে পুলিসকে অবশ্যই এবং যে ব্যক্তির বাড়ি, দোকান ঘর, গুদাম বা অফিস ইত্যাদি তল্লাশি বা সার্চ করা হচ্ছে, তাকে সার্চ ওয়ারেন্টের একটি কপি অবশ্যই দিতে হবে।

যে কেউ সার্চ ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পারে না, তা করবে আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট, সেই সার্চ ওয়ারেন্ট যখন থেকে ইস্যু করা হবে সেই সময় ও দিন থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তল্লাশি অভিযান বা সার্চ অপারেশন শুরু করতে হবে পুলিসকে। ৪৮ ঘন্টা হয়ে গেলে, সেই পুরানো সার্চ ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে কোনো তল্লাশি অভিযান বা সার্চ অপারেশন করতে পারে না পুলিস।

গ্রেফতারের সময় আপনাকে গ্রেফতারের কী কারণ,যিনি বা যে পদ মর্যাদার অফিসার আপনাকে গ্রেফতার করলেন, সেই গ্রেফতারকারী অফিসারের নাম, গ্রেফতারের সময় ও ও যে স্থান থেকে আপনাকে গ্রেফতার করা হল সেই সম্পর্কিত একটি লিখিত মেমো পুলিস আপনাকে বা আপনার বাড়ির লোককে দিতে অবশ্যই বাধ্য থাকবে।

আপনার গ্রেফতারের সময় বা নিকট কোন আত্মীয় আপনার সামনে গ্রেফতার হলে এই জিনিসটি অবশ্যই চেয়ে নেবেন পুলিশের কাছে। পরবর্তী সময়ে আদালতে যদি বিষয় গড়াই তবে মামলার ক্ষেত্রে এটির গুরুত্ব অপরিসীম।

আপনাকে গ্রেফতার করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিস আপনাকে যে থানার পুলিস গ্রেফতার করেছে সেই থানার অন্তর্গত বিচারাধীন ম্যাজিষ্ট্রেটের সামনে হাজির করতে বাধ্য থাকবে এবং ম্যাজিষ্ট্রেটের অনুমতি ছাড়া আর একদিনও আপনাকে অতিরিক্ত আটকে রাখতে পারে না থানার লকআপে।যদি কোন কারনে আদালতের কাজকর্ম বন্ধ থাকে বা ছুটি থাকে,তাহলে সেক্ষেত্রে ম্যাজিষ্ট্রেটের বা বিচারকের সরকারি ঠিকানা বা বাড়িতে আপনাকে হাজির করাতে হবে।

মহিলা পুলিস ছাড়া কোনওভাবেই কোনও মহিলাকে গ্রেফতার বা তল্লাশী চালানো যায় না।এক্ষেত্রে আপনি মহিলা হলে অবশ্যই মহিলা পুলিস দিয়ে আপনাকে গ্রেফতার বা তল্লাশি করাতে হবে।
আইন অনুযায়ী যতক্ষণ আপনি পুলিস লকআপে থাকবেন ,ততক্ষণ পুলিস আপনাকে কোনওপ্রকার শারীরিক বা মানসিক অত্যাচার করতে পারে না। এমনকি চড় মারতেও পারে না।

পুলিস আপনাকে হয়রানি করলে কী করবেন-

সাধারণ ভাবে রাষ্ট্র বিরোধী বা সরকার বিরোধী, ক্ষমতায় থাকা শাসক দল বিরোধী কোনও মতামত প্রকাশ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্টের জন্য পুলিস কাউকে গ্রেফতার করতে পারে না। কারণ বাক স্বাধীনতার অধিকার আমাদের সংবিধানে স্বীকৃত। কিন্তু পুলিস মামলা দায়ের করে অন্য ধারায়। আপনি পুলিশী হয়রানির শিকার হতে পারেন যদি আপনি আপনার ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোষ্টে-

অশ্লীল কোনো শব্দ ব্যবহার করেন যার ফলে আপনার দ্বারা অন্য কোন ব্যক্তি অপমানিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করলে ভিত্তিহীন গুরুতর অভিযোগ করেন যার কোন প্রমাণ নেই শুধুমাত্র ব্যক্তিকে অপমান বা তার সম্মানকে নষ্ট করার উদ্দেশ্যে। কোন প্রকার ব্যক্তি তা সে মহিলা হোক আর পুরুষ হোক তার চরিত্রহনন করেন এমন কিছু লিখে বা ছবি দিয়ে।

এছাড়াও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে এইরকম কিছু পোস্ট করলে।ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত ঘটে এমন কিছু পোস্ট করলে।বা নীল ছবি দ্বারা উত্যক্ত করা বা টাইম লাইনে শেয়ার করা ইত্যাদি কিছু করলে আপনি গ্রেফতার হতে পারেন।

তাই এই সমস্ত বিষয়গুলি এড়িয়ে চলুন একজন দায়িত্ববান নাগরিক হিসাবে। আপনার নির্বুদ্ধিতামূলক কাজকর্মের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় পুলিশের হাতে অস্ত্র তুলে দেবেন না।
অবশ্যই আপনার কাছে স্থানীয় রেপুটেড কোনও ক্রিমিন্যাল ল ইয়ার বা স্থানীয় কোন মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী এবং মিডিয়ার ফোন নাম্বার রাখুন এবং বাড়ির লোককেও এইসব নাম্বারগুলি দিয়ে বলে রাখুন আপনাকে পুলিস তুলে দিয়ে গেলে এই নাম্বারগুলিতে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করতে।

হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে থেকেই শরীর যে ৭টি সিগনাল দেয়

হার্ট অ্যাটাক একটি ভীতিকর বিষয়। যার একবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায় তাকে প্রায় সারাজীবনই বেশ সতর্কভাবে জীবনযাপন করতে হয়। হার্ট অ্যাটাক এক নীরব ঘাতক। যে কেউ যেকোনো সময় এর শিকার হতে পারেন। শরীরচর্চা না করা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণ ও জীবনযাপনে অনিয়ম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। এর লক্ষণগুলো জানা থাকলে একটি জীবন হয়তো বাঁচিয়ে দেওয়া সম্ভব। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে হার্ট অ্যাটাকের কিছু লক্ষণের কথা তুলে ধরেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

হার্ট অ্যাটাক হয় সাধারণত হৃদপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত চলাচল কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে। অথবা রক্ত চলাচলের শিরা-উপশিরাগুলোতে কোনো ব্লক হলে হার্ট অ্যাটাক হয়। তবে আগেভাগেই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো ধরতে পারলে হয়তো অকাল মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের এক মাস আগে থেকেই দেহ কিছু সতর্কতা সংকেত দিতে শুরু করে। এখানে এমন ৭টি লক্ষণ বাতলে দেওয়া হলো যেগুলো দেখা গেলে বুঝবেন আপনি শিগগিরই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন। আর লক্ষণগুলো দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আসুন জেনে নেওয়া যাক-

১. অস্বাভাবিক রকমের শারীরিক দুর্বলতা: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে এবং রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এমনটা হয়। রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোতে চর্বি জমে বাধা সৃষ্টি করলে এবং মাংসপেশী দুর্বল হয়ে পড়লে হৃদরোগের প্রধানতম এই লক্ষণটি দেখা দেয়।

২. ঝিমুনি: দেহে রক্তের প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনিও দেখা দেয়। মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনির সৃষ্টি হয়।

৩. ঠাণ্ডা ঘাম: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে দেহে ঘাম ঝরলে স্যাঁতসেতে ও ঠাণ্ডা ভাব অনুভূত হবে।

৪. বুক ব্যথা: বুক, বাহু, পিঠ এবং কাঁধে ব্যাথা অনুভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বুকে ব্যথা এবং সংকোচন হৃৎপিণ্ডের অসুস্থতার একটি বড় লক্ষণ।

৫. ঠাণ্ডা বা ফ্লু: হার্ট অ্যাটাকের শিকার অনেককেই এক মাস আগে থেকে ঠাণ্ডা-সর্দি বা ফ্লু-তে আক্রান্ত হতে দেখা গেছে।

৬. শ্বাসকষ্ট: ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ না হলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। হার্টের সমস্যা থাকলে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কমে যায়। আর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস ছোট হয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা যায়।

৭. বমি, বদহজম, তলপেটে ব্যথা: বমিভাব, বদহজম, বুক হৃৎপিণ্ডে জ্বালাপোড়া করা বা তলপেটে ব্যথাও অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। সুতরাং এই লক্ষণগুলো দেখা গেলেও হৃদরোগের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

তথ্য ও ছবি: সংগৃহীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *